ফ্রি পাবলিক WIFI ব্যবহার করবেন না কেন ?

Tahera Siddika

22 October, 2020 | 6 : 16 pm

ফ্রি পাবলিক WIFI ব্যবহার করবেন না কেন ?

ফ্রি পাবলিক WIFI ব্যবহার করবেন না কেন, করলে কি কি ক্ষতি হতে পারে এটার বিস্তারির আজ তুলে ধরার চেষ্টা করব।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ইন্টারনেট এখন হাতের নাগালে। অফিস হোক বা বাড়ি, সব ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এখন অতি জরুরি বিষয়। আর তাই এখন বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বাস,লাইব্রেরি, এয়ারপোর্ট বা শপিংমলে ফ্রিতে পাবলিক ওয়াইফাই এর সুব্যবস্থা থাকে যা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য। কিন্তু এসব ফ্রি ওয়াইফাই আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা সুরক্ষা নিশ্চিত করে সে সম্পর্কে আমরা ভেবে দেখেছি কি?

সত্যি বলতে/বিশেষজ্ঞদের মতে এসব ফ্রি ওয়াইফাই আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যসমূহের নিরাপত্তা বিঘ্নের একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে।
ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের কারণে একজন গ্রাহক বেশ কিছু জায়গায় ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় পড়তে পারেন।

তথ্য চুরির সম্ভাবনা

ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যবহার করে আপনি যেসব ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন, সেটি কোন হ্যাকার ইচ্ছা করলেই ম্যান-ইন-দ্যা-মিডল আ্যটাকের মাধ্যমে দেখে নিতে পারে। এই আ্যটাকের মাধ্যমে আপনি ওই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে যে যে সাইটে প্রবেশ করবেন তার প্রতিটি তথ্যই হ্যাকারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে।
এভাবে ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড ও হ্যাকারের হস্তগত হয়ে যেতে পারে।

ম্যালওয়্যার আ্যটাক

ফ্রি ওয়াইফাই এর সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা বিভিন্ন ম্যালিশিয়াস সফটওয়্যার ও ছড়িয়ে থাকে যার মাধ্যমে পরবর্তীতে আপনার কার্যক্রমের উপর সারাক্ষণ নজরদারি রাখতে পারে বা কম্পিউটারে ভাইরাস সংক্রমণ করে টাকা আদায় করতে পারে। তাই একটি পাবলিক ওয়াইফাই জোনে কানেক্টেড থাকলে অবশ্যই ডিভাইস এর ফাইল শেয়ারিং অপশন টি বন্ধ রাখতে হবে।

ফেইক হটস্পটস

যেহেতু বেশিরভাগ মানুষই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের ব্যাপারে তেমন সতর্ক থাকেন না, তাই হ্যাকার রা এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফেইক হটস্পটস তৈরী করে। তারা হটস্পটসগুলোকেও এমনভাবে নাম দেয় যাতে তা একদম আসল  নেটওয়ার্কটির মতই দেখায়। যেমন, আপনি গুডমর্নিং নামক একটি কফিশপে থাকলে, তারা গুড মর্নিং নামে একটি হটস্পট তৈরি করে।  ফলে অনেকেই সরল বিশ্বাসে সেই হটস্পটস গুলোতে কানেক্টেড হয়ে যায় এবং সরাসরি হ্যাকারের হাতের মুঠোয় চলে যায়।

তাই সাইবার নিরাপত্তার জন্য  সতর্কতা হিসেবে আমরা যা যা করতে পারি –

  • ফ্রি ওয়াইফাই চালিয়ে কখনইঅনলাইন ব্যাংকিংয়ের কাজ বা কোন একাউন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন না করা।
  • ইন্টারকানেক্টেড অ্যাপগুলোর ফাইল শেয়ারিংয়ের অপশন বন্ধ রাখা।
  • ফ্রি ওয়াইফাই এ কানেক্টেড হওয়ার আগে সেখানকার কর্মচারী বা কারো কাছ থকে সঠিক নেটওয়ার্ক টি জেনে নেওয়া।
  • অনলাইনের কাজ শেষ হয়ে গেলে ওয়াইফাই অফ করে রাখা। এছাড়াও ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।
  • ভালোমানের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করা। এটি যেকোনো ধরনের ফিল্টারিং বা ওয়েবসাইট ব্লকিং এড়িয়ে যায়। এর ফলে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করা যায়।
  • অরক্ষিত উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করা।

 

আমাদের সকল সাইটের লিংকঃ


174 Views


5 2 votes
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x