The Man Behind the Great Cyberheist-Albert Gonzalez

Amit&Sonchoy

05 April, 2021 | 2 : 12 pm

আলবার্ট গঞ্জালেস – দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য গ্রেট সাইবারহেইস্ট

 

২০০৩,জুলাইয়ের এক উষ্ণ মধ্যরাত। আলো আঁধারের আপার ম্যানহাটনে তখন রাতের  নিস্তব্দতা।শহরের শেষ প্রান্তে একটি ব্যাঙ্কের এটিএম বুথের লবি। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারনকৃত দৃশ্য অনুযায়ী একজন লম্বা কোঁকড়ানো চুলের ব্যক্তি ব্যাঙ্কে লুকিয়ে প্রবেশ করলো। আগন্তুকের  দিকে তাকালে সর্বপ্রথম যা চোখে পড়ে তা হলো আগন্তুকের নাকে থাকা আংটি। কিছুক্ষণ পর আগন্তুকের পিছু নিয়ে অন্য এক ব্যক্তি লবিতে প্রবেশ করলো।পিছু নেয়া ব্যক্তি সম্পর্কে আগন্তুক ওয়াকিবহাল না থাকলেও ব্যক্তিটি এটিএম কার্ড ব্যবহার করার ভান করে আগন্তুককে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলো।  এর গোয়ন্দা বিভাগে কর্মরত লোকটি দেখলো আগন্তুক একটি কার্ড এর মাধ্যমে কয়েকটি একশো ডলারের নোট উত্তোলন করলো। এরপর একেরপর এক নতুন কার্ড দিয়ে আরো কয়েকবার কয়েকশো ডলার টাকা উঠাতে দেখার পর লোকটার ধারনা হয় আগন্তুক কোনো অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট।  সেরাতে NYPD এর গোয়ান্দাটি আপার ম্যানহাটনে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান গাড়ি চুরির রহস্য ভেদ করায় ব্যস্ত ছিলো।সেই ফলশ্রুতিতে সন্দেহবশত কোঁকড়া চুলের আগন্তুকের পিছু নিয়ে এটিএম লবিতে আসে এবং আগন্তুক এর টাকা উঠানো দেখে। আগন্তুক হয়তো গাড়ি চুরি করছিলো না কিন্তু গোয়ান্দাটি বুঝতে পারে এখানে অন্য আরেকটি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আগন্তুককে গ্রেফতার করে NYPD এর সদর দপ্তরে আনা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আগন্তুক স্বীকার করে সে ক্যাশ আউট জালিয়াতি করছিলো।একটি এটিএম বুথের ডেইলি ক্যাশ আউট লিমিট শেষ হয় ঠিক মধ্যরাতে।সেহেতু মধ্যরাতের কিছু আগে একবার টাকা উঠালে কিছুক্ষণ পর আবার টাকা উঠানো যায়।এভাবেই ক্যাশ আউট জালিয়াতিতে সর্বোচ্চ পরিমান টাকা উঠানো সম্ভব।আগন্তুকের কাছে এমন স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর গোয়ান্দা কর্মকর্তাটি যখন তার নাম জিজ্ঞাসা করে তখন আগন্তুকের নম্র উত্তরটি ছিলো “আলবার্ট গঞ্জালেস”। অতঃপর NYPD আলবার্টের অতীত ইতিহাস ঘেটে জানতে পারে ভার্চুয়াল জগতে আলবার্ট Cumbajohny,Segvec নামে পরিচিত ছিলো। তবে আলবার্টের নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিলো Soupnazi নামটি।

 

 

আরো পড়ুন – এক অভিনব হ্যাকার “অ্যাস্ট্রা”-র কাহিনী  

 

এবার চলুন ২৩ বছর পুর্বে যাওয়া যাক। ১৯৮১ সাল। সদ্য সমাপ্ত হওয়া দুই বিশ্ব শক্তির মধ্যে চলমান কোল্ড ওয়্যারে আমেরিকানদের নিকট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ কিউবার এক ছোট শহরে জন্ম নেয় আলবার্ট গঞ্জালেস।ছোট বেলায় কিউবা ছেড়ে মায়ামিতে চলে আসে গঞ্জালেস পরিবার।এক বোন এবং বাবা মা এর সাথে মায়ামিতে বড় হতে থাকে গঞ্জালেস।ফ্লোরিডার সাউথ মায়ামি হাই স্কুলে পড়ার সময় গঞ্জালেস মাত্র ১২ বছর বয়সে তার প্রথম কম্পিউটার কিনে।হাই স্কুলে কম্পিউটার নার্ডদের প্রধান ছিলো গঞ্জালেস। ১৪ বছর বয়সে,নিজের প্রথম কম্পিউটার কেনার মাত্র দুই বছরের মাথায় নাসার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করতে সক্ষম হয় আলবার্ট।

 

 

২০০০ সাল।মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফ্লোরিডা,মায়ামি ছেড়ে নিউ ইয়র্কে চলে আসে গঞ্জালেস।সেখানে মাত্র তিনমাস থাকার পর নিরাপত্তা জনিত কারনে নিউ জার্সির কিয়ার্নিতে চলে আসে আলবার্ট। কিয়ের্নিতে ২০০২ সালে আলবার্ট ShadowCrew নামক একটি সংগঠন গঠন করে যার কাজ ছিলো এটিএম কার্ড ফ্রড।২০০৩ এর জুলাইয়ের এক মধ্যরাতে আপার ম্যানহাটনের এক এটিএম বুথে জালিয়াতির সময় গ্রেফতার হয় আলবার্ট গঞ্জালেস। গঞ্জালেস এর গ্রেফতারের খবর দ্রুত নিউআর্কের নিউ জার্সি ইউএস এটর্নির অফিসে এবং একি সাথে সিক্রেট সার্ভিসের ইলেক্ট্রনিক ক্রাইম টাস্ক ফোর্সের এজেন্টদের কাছে পৌঁছে যায়। সেই সময় ECTF এর এজেন্টরা উক্ত এলাকার ডেবিট ক্রেডিট কার্ডের জালিয়াতির তদন্ত করছিলো এবং এই জালিয়াতির সাথে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজছিলো।যদিও আলবার্টের গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত তারা আর কাউকে খুঁজে পায় নি।আলবার্টের জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা বুঝতে পারে তারা যাদের খুঁজছিলো আলবার্ট  তাদের পালের গোদা।নিউ জার্সিতে আলবার্টের এপার্টমেন্টে তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে মিলিয়নের উপর ক্রেডিট কার্ড ডিটেইলস সংরক্ষণ  করা ছিলো। আলবার্ট এর একটি ত্রুটি এজেন্টরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।তা হলো আলবার্ট নিজের কাজ নিয়ে খুব উচ্চ ধারণা রাখতো এবং তার কাজ সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করতো।

আরও পড়ুনঃ https://www.canbd.org/jeanson-james-ancheta/

 

একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট এর ভাষ্যমতে গঞ্জালেস খুবই উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলো।, “He knew computers. He knew fraud. He was good.” সিক্রেট এজেন্টরা খুব দ্রুত বুঝতে পারে গঞ্জালেস শুধু সাধারন একজন ক্যাশার ছিলো না যে শুধুমাত্র এটিএম ফ্রডের সাথে জড়িত।আলবার্ট একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইন্টারনেট কমার্স এর স্বর্ণযুগের শুরুর দিকে গঠিত হওয়া  ShadowCrew.com যা একটি আর্কিটাইপাল ক্রিমিনাল সাইবারবাজার, এর উদীয়মান তারকা এবং মডারেটর ও ছিলো বটে। ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ এনকোডার এবং কার্ড এমবসার দিয়ে এর ইউজাররা চুরি করা এটিএম কার্ড একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতো। একই সাথে যেসকল ব্যাঙ্ক এবং এটিএম বুথ সহজেই হ্যাক করা যাবে এবং কিভাবে তা করতে হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকতো সেখানে। এরিজোনার একজন পার্ট টাইম স্টুডেন্ট এবং নিউ জার্সির একজন প্রাক্তন মোর্টেজ দালাল দ্বারা ShadowCrew এর সৃষ্টি হলেও আমেরিকা,ইউরোপ এবং এশিয়ার শতাধিক হ্যাকার এই নেটওয়ার্কের আওতাধীন ছিলো।নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হওয়া দ্য গ্রেট সাইবার হেইস্ট নামক লেখায় লেখক বর্ণনা করেন একজন ফেডারেল প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে “ShadowCrew is an  eBay,Monster.com and MySpace for cybercrime.” কয়েকটি প্রসিকিউশনের পর গঞ্জালেস সরকারকে সহায়তা করতে রাজি হয় এবং এর বিনিময়ে সে পরবর্তী প্রসিকিউশন এড়াতে পারে।

 

 

আলবার্ট গঞ্জালেস এর ভাষ্যমতে, “I was 22 years old and scared.When you have a Secret Service agent in your apartment telling you you’ll go away for 20 years, you’ll do anything.” নিউ ইয়র্ক টাইমের দ্য গ্রেট সাইবার হেইস্ট লেখায় লেখক জেমস ভেরিনি এর মতে, এজেন্ট মাইকেল(ছদ্মনাম),যে সবচেয়ে বেশী আলবার্ট এর সান্নিধ্যে থেকেছে তার ভাষ্যমতে আলবার্ট ছিলো খুবই ভদ্র এবং সাহায্যকারী। তার মতে আলবার্ট সকলকে যথাযত সম্মান করতো,ভদ্র ছিলো এবং সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতো।প্রথম দিকে আলবার্ট চুপচাপ থাকলেও পরবর্তীতে যখন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের বিশ্বাস করা শুরু করলো তখন সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে নিয়মিত কথা বলা শুরু করেছিলো।আলবার্টের বিশ্বাস অর্জনের জন্য এজেন্টদের আলবার্টের প্রাত্যাহিক জীবনের সমস্ত খরচ আর ব্যয়ভার বহন করতে হতো। ব্যক্তিগত জীবনে আলবার্ট গঞ্জালেস ছিলো একজন ড্রাগ এডিক্ট।সে কোকেইন,মোডাফিনিল,এন্টিনার্কেলেপ্টিক গ্রহন করতো রাত জেগে কম্পিউটারের কাজ করার জন্য। তার এডিকশন কমানোর জন্য এজেন্টরা তাকে Ecstasy আর Ketamine দেয়া শুরু করলো।যার ফলশ্রুতিতে চিকন দেহগঠনের লম্বা চুলের অধিকারী আলবার্ট সময়ের পরিক্রমায় ওজন বাড়াতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে তার ট্রেডমার্ক লম্বা চুল কেটে ছোট করে।এজেন্টের ভাষ্যমতে, “He could be very disarming, if you let your guard down. I was well aware that I was dealing with a master of social engineering and deception. But I never got the impression he was trying to deceive us.” গঞ্জালেস এর ধোঁকা দেয়ার প্রবনতার জন্যই গঞ্জালেস এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মূল্যবান সাইবার ক্রাইম ইনফরম্যান্টদের একজন।

 

২০০৪ পর্যন্ত সরকারের সাথে কাজ করার পর এবং ShadowCrew এর বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের তালিকা এবং পরিচয় সরকারকে দেয়ার পর গঞ্জালেস নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য মায়ামিতে চলে আসে।সেখানে ২০০৫ সাল হতে ২০০৭ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭০ মিলিয়ন এটিএম কার্ড এবং নাম্বার ফ্রডের সাথে যুক্ত ছিলো গঞ্জালেস। তারা আমেরিকার কিছু বৃহৎ এবং পরিচিত কর্পোরেশনের কাস্টমার ডাটাবেজ হতে নাম্বার সংগ্রহ করতো।যেমন OfficeMax, BJ’s Wholesale Club, Dave & Buster’s restaurants, the T. J. Maxx and Marshalls clothing chains. একি সাথে গঞ্জালেস এবং ShadowCrew এর মেম্বাররা Target, Barnes & Noble, JCPenney, Sports Authority, Boston Market and 7-Eleven’s bank-machine network ও হ্যাক করেছিলো এবং সেখানকার কাস্টমার ডাটাবেজ হতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয়। গঞ্জালেস এর মামলার চিফ প্রসিকিউটরের মতে,  “The sheer extent of the human victimization caused by Gonzalez and his organization is unparalleled.”

 

২০০৬ এর ক্রিসমাস কিছুদিন পূর্বে TJX এর এটর্নিরা মাসাচুসেটস এর ইউএস এটর্নির সহকারী স্টেফান হেইম্যান এবং জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে কয়েকটি মুঠোফোনের বার্তার মাধ্যমে তাদের কয়েকশ ক্রেডিট কার্ড চুরির খবর জানায় যা ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদানকারী সংস্থার নিকট হতে তারা জানতে পারে।  ২০০৭ সালে তারা অনুরুপ একটি বার্তা পায় ডেভ এবং বাস্টার্স এর কাছ থেকে।যদিও এখানে ব্রিচের ধরন আলাদা ছিলো।দুইবছর উক্ত কেস নিয়ে কাজ করার পর অবশেষে হেইম্যান অবশেষে একটি সূত্র পেতে সমর্থ হয়। একজন আন্ডারকভার এজেন্ট তার সান ডিয়েগোর নিজস্ব অফিসে বসে Maksym Yastremskiy থেকে এটিএম কার্ড ডাম্প ক্রয় করছিলো যে ছিলো গঞ্জালেস এর সহকারী। ২০০৮ সালের মে মাসের ৭ তারিখ সকাল ৭ টার দিকপ মায়ামির ন্যাশনাল হোটেল সংলগ্ন সমুদ্রতীর হতে গঞ্জালেসকে গ্রেফতার করা হয়।সে সময় তার সাথে তার ব্যবহারকৃত দুইটি ল্যাপটপ,একজন ক্রোয়েশিয়ান রমনী এবং ২২ হাজার মার্কিন ডলার ছিলো।ফেডারেল অফিসারদের চাপের মুখে সে তার চুরিকৃত অর্থের সন্ধান দিতে বাধ্য হয়।গঞ্জালেসের পিতামাতার বাড়ির পিছনের ইয়ার্ডে ড্রামের ভেতর আনুমানিক ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুতে রেখেছিলো আলবার্ট গঞ্জালেস।এটর্নি জেনারেল মাইকেল মুকাসে নিজে আলবার্ট গঞ্জালেস এর গ্রেফতার এর সংবাদ জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করেন। তার মতে এটাই আমেরিকার ইতিহাসে ঘটা সবচেয়ে বড় আইডেন্টিটি থেফ্ট কেস। যদিও গঞ্জালেসের উকিলের ভাষ্যমতে সরকারের নিকট পর্যাপ্ত তথ্য প্রমান ছিলো না গঞ্জালেসকে গ্রেফতারের।

 

২০০৮ সালের ১৮ মে জোনাথন জেমস নামক একজন টিনেজ হ্যাকার,যে অল্প বয়সেই হ্যাকিং এর জন্য নাম কামিয়েছিলো,মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে।তার রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট অনুসারে,সে মনে করেছিলো অল্প বয়সে হ্যাকিং ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য সরকার গঞ্জালেসের করা অপরাধ সমুহের দায়ভার তার উপরেও দিতে চেষ্টা চালিয়েছিলো। ২০০৯ সালের মার্চে গঞ্জালেস এর কেসের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।এবং তাকে ২০ বছরের সাজা দেয়া হয়।কারাগারে ভালো ব্যবহারের জন্য ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালে আলবার্ট গঞ্জালেস এর সাজার মেয়াদ শেষ হবে এবং সে কারামুক্তি লাভ করবে।সাজা পাওয়ার পূর্বে গঞ্জালেস শুধু মাত্র একটি কথাই বলেছিলো,“I blame nobody but myself.I’m guilty of not only exploiting computer networks but exploiting personal relationships, particularly one that I had with a certain government agency who believed in me. This agency not only believed in me but gave me a second start in life, and I completely threw that away.”

 

[তথসূত্রঃ Wikipedia  The Great Cyberheist by James Verini published in The New York Times Magazine]

Find us more here:

 

Website:

https://www.canbd.org

LinkedIn:

https://www.linkedin.com/company/canbdorg/

YouTube:

https://www.youtube.com/channel/UC5px2nUYgxiletdr9_6771A

Twitter id:

https://twitter.com/canbdorg

Instagram:

https://www.instagram.com/canbdorg/

Facebook page:

https://www.facebook.com/canbd.org

Facebook Group:

https://www.facebook.com/groups/canbd.org/


150 Views


5 1 vote
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x