দ্যা হোমলেস হ্যাকার -আদ্রিয়ান লামো

Mariyam&Sonchoy

12 April, 2021 | 2 : 45 pm

দ্যা হোমলেস হ্যাকার -আদ্রিয়ান লামো

 

আদ্রিয়ান লামো ছিলেন একজন কলম্বিয়ান-আমেরিকান কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও হ্যাকার । হ্যাকারদের সাধারণত দুটি দলে ভাগ করা হয়। একদল গ্রে হ্যাট হ্যাকার আর একদল ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার। আদ্রিয়ান লামো ছিলেন গ্রে হ্যাট হ্যাকার। তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু!, মাইক্রোসফটের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে। ২০০৩ সালে তিনি গ্রেফতার হন। ২০১০ সালে লামো বিকল্পধারার ওয়েবসাইট উইকিলিকসে তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে আটক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ব্র্যাডলি ম্যানিং সম্পর্কে এফবিআইকে তথ্য দেন। এরপর এফবিআই ম্যানিংকে গ্রেফতার করে।

 

আদ্রিয়ান লামো ১৯৮১ সালে বোস্টন, ম্যাসাচুসেট্‌সয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মারিও লামো-জিমেনিজ ও মায়ের নাম মেরি লামো-এটউড। তিনি হোমলেস হ্যাকার হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারনত কফি শপ, গ্রন্থাগার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাফে ব্যবহার করতেন হ্যাক করার জন্য। যেহেতু তাকে কোন এক যায়গায় পাওয়া যেত না সেহেতু হ্যাক করার পর তিনি তার ট্র্যাক মুছতেন না। তিনি জানতেন এই ট্র্যাক ধরে কেউ তাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। যদিও তিনি কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করেছেন কিন্তু তিনি তার কাজের জন্য কোন টাকা নিতে আপত্তি জানান।

 

আরও পড়ুনঃএক বৈশ্বয়ীক হেকটিভিস্ট দল “অ্যানোনিমাস” এর কাহিনী

 

’৯০-এর দশকের মাঝের দিকে লামো সমকামী ও হিজড়াদের মিডিয়া ফার্ম প্লানেটআউট.কম-এ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন।১৯৯৮ সালে তিনি সানফ্রান্সিসকো বোর্ড অফ সুপাভাইজর দ্বারা সমকামী ও হিজড়াদের দ্বারা গঠিত ইয়ুথ টাস্কফোর্সের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে লামো তাকে চিকিৎসার জন্য দেওয়া বেনজেড্রিন বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করেছিলেন। ২০০৪ সালে উইয়ার্ড ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার সাবেক মেয়ে বন্ধু বলেন, লামো, তাকে অনেক শাসন করতেন এবং লামোর একটি শটগান ছিল যেটা দিয়ে সে তার মেয়ে বন্ধুকে ভয় দেখাত। একই সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়, আদালত তাকে পূর্ণবিশ্রামের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও লামো পরবর্তীতে এই সাক্ষাৎকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং এর সত্যতা নাকচ করে দেন। এছাড়া ২০১০ সালের মে মাসের উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের এক নিবন্ধে বলা হয়, লামোর ব্যাকপেক চুরি যাবার পর এক তদন্ত কর্মকর্তা তার অস্বাভাবিক আচরন লক্ষ্য করে ও তাকে আটক করে। তার এই আচরনকে এসপার্জার সিনড্রম বলে আখ্যায়িত করে এবং তাকে ৭২ ঘন্টার চিকিৎসা দেয় যা পরে ৯ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। ২০১১ সালের মার্চে লামো অভিযোগ করেন, ম্যানিং ঘটনার পর থেকে তার জীবন হুমকির মুখে, লামো প্রথম পরিচিতি পান “ইনসাইড-অল.কম নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। যেখানে তিনি আমেরিকান অনলাইনের (AOL.com) মুক্তির অপেক্ষায় থাকা একটি সফটওয়ারের গ্রাফিক্স ডিজাইনের স্ক্রিন শট প্রকাশ করেছিলেন। ফলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডর তার ওয়েবসাইটের নিবন্ধন বাতিল করেছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে “ওয়ার্ল্ডকম” দ্বারা লামো ব্যাপক প্রশংসিত হন কারণ তিনি তাদের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন। লামো’র দাবি ছিল যে, ওয়ার্ল্ডকমের পাসওয়ার্ড খুব সহজে অনুমান করেই তাদের নেটওয়ার্ক হ্যাক করতে তিনি সক্ষম হন।  এরপর ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর ডাটাবেজে ঢুকেন এবং “লেক্সিসনেক্সিসের” একাউন্ট ব্যবহার করে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গবেষণাপত্রে ঢুকতে সক্ষম হন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে এবং তদন্ত কর্মকর্তারা ১৫ মাস তদন্ত করে আগস্ট ২০০৩ সালে লামো’র বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০.০০টায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামেন্টোতে যুক্তরাষ্ট্র মার্শালের কাছে অত্মসমর্পন করেন।

 

 

১১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে এফবিআইর কাছে পুণরায় আত্মসমর্পন করেন ও তখন তার বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ৮ জানুয়ারি মাইক্রোসফ্ট, “লেক্সিসনেক্সিসের” এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসএ সাইবার হামলার জন্য অভিযোগ গঠন করা হয়।পরবর্তীতে আদালত ২০০৪ সালে লামোকে ৬৫,০০০ ডলার জরিমানা, ছয় মাস তার বাড়িতে গৃহবন্দি ও ২ বছরের জন্য পরীক্ষাধীন অবস্থায় রাখার আদেশ দেয়। অভিযোগগুলো হলো, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু! ও ওয়ার্ল্ডকমের নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করে দেওয়া। ১৮ মাস পর্যবেক্ষনে থাকা অবস্থায় লামো ২০০৬ সালের ৯ মে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে তার রক্তের নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কর্তৃপক্ষ তার ডিএনএ নথিভুক্ত করার জন্য তার রক্ত চেয়েছিল পরে লামো’র আইনজীবী বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে লামো রক্ত দিতে রাজি হননি। লামো তার চারপাশে বাকিদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। তিনি একদল অপরাধীদের আর্বিভাব অনুমান করতে পেরেছিলেন।  তিনি এমন একটি দিন কল্পনা করতে পেরেছিলেন যখন প্রযুক্তি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞানের কল্পকাহিনীর পৃষ্ঠা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং এই প্রযুক্তি সরকার,অসাধু ব্যাক্তি, এমনকি সংস্থাগুলিকে আমাদের অজান্তেই আমাদের দেখার অনুমতি দিবে।বিভিন্ন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে লামো মূলত ভবিষৎবাণী করেন এবং এসম্পর্কে সতর্ক করেন যে, অসাধু ব্যাক্তিরা যদি বুঝতে পারে যে কোনো নেটওয়ার্কে প্রবেশ এতটা সহজ তাহলে কেউই নিরাপদ থাকবে ন। ২০১৮ সালে আদ্রিয়ান লামো রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৩৭ বছর। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী ছিল কি না তা দেখার জন্য ফরেনসিক টেস্ট করা হলেও কোন কারন দেখানো সম্ভব হয়নি।

Find us more here:

Website:

https://www.canbd.org

LinkedIn:

https://www.linkedin.com/company/canbdorg/

YouTube:

https://www.youtube.com/channel/UC5px2nUYgxiletdr9_6771A

Twitter id:

https://twitter.com/canbdorg

Instagram:

https://www.instagram.com/canbdorg/

Facebook page:

https://www.facebook.com/canbd.org

Facebook Group:

https://www.facebook.com/groups/canbd.org/


74 Views


0 0 votes
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x