জনাথন জেমস-যে কিশোর হ্যাকার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার জন্য আত্মহত্যা করেন

Naime&Sonchoy

21 May, 2021 | 7 : 55 pm

 

জনাথন জেমস ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত আমেরিকান হ্যাকার এবং সবচেয়ে কমবয়সী কিশোর। হ্যাকার কমিউনিটিতে তিনি কমরেড জন নামেও বহুল পরিচিত। যিনি কিনা ১৬ বছর বয়সেই সাইবার অপরাধের সাথে লিপ্ত হওয়ার কারণে জেলে গিয়েছিলো। তিনি বেল সাউথ, মিয়ামি-ডেড,আমেরিকার ডিফেন্স (The U.S Department of Defense) এবং শক্তিশালী নাসা সহ আরো অনেক বড় বড় ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিলেন। পূর্ন নাম জনাথন জোসেফ জেমস। হ্যাকার কমিউনিটিতে তিনি কমরেড জন নামেও পরিচিত।

 

জনাথন জেমস ১৯৮৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রবার্ট জেমস। জোসেফ জেমস এর ইচ্ছাতে তার বাবা তাকে ছোট বেলায় কম্পিউটার কিনে দিয়েছিলেন। একটা সময় তিনি কম্পিউটারের প্রতি খুব আসক্ত হয়ে পরেন। তের বছর বয়সে বাবা রবার্ট জেমস ছেলের কম্পিউটারের নেশা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেখতে পেলে কম্পিউটার জব্দ করেন। জেমস উন্মাদ হয় গেলেন এবং তখন বাড়ি থেকে পালিয়েও যান। রাস্তার পাশের টেলিফোন বুথ থেকে টেলিফোনে বাবাকে হুমকিও দেন- আর বাড়ি ফিরবেন না তাকে যদি কম্পিউটার ফেরত না দেয়া হয়। অগত্যা বাবা ছেলের কথা মেনে নিয়ে তাকে ফেরত নিয়ে আসেন বাড়িতে কম্পিউটার দেবেন এই আস্বাসে।

https://www.canbd.org/the-homeless-hacker-adrian-lamo/

মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং শিখতে শুরু করেন জেমস, জানতেন ইউনিক্স আর সি প্রোগ্রামিং ভাষা। কম্পিউটার ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে ঘুরে ঘুরে শিখতেন তিনি। আর এ বিদ্যার উপর ভর করেই এক বছরের মাথায় হ্যাক করেন নাসা আর প্রতিরক্ষা বিভাগের বেল সাউথ, মিয়ামি-ডেড, আমেরিকার ডিফেন্স (The U.S Department of Defense) এবং পরম শক্তিশালী নাসা সহ আরো অনেক বড় বড় ওয়েবসাইট যা কিনা অসম্ভব নয় সবার দৃষ্টিতে অনেকটা অবিশ্বাস করার মত ব্যাপার ছিলো।

১৯৯৯ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে জেমস তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ভাইরাস সম্পর্কে তার চিন্তা শক্তিকে অনেক দূর নিয়ে যান। এমনকি তিনি তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেল-সাউথ, মিয়ামি ডেড, আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং নাসার ওয়েব সাইট হ্যাক করেন। এছাড়াও তিনি ব্যাকডোর কম্পিউটিং এর মাধ্যমে ডালাস এবং ভিরজিনার সার্ভারে একটি স্নিফার ইন্সটল করেন। যার মাধ্যমে তিনি ওই সব স্থানের প্রায় তিন হাজার তথ্য চুরি করেন। জেমস নাসার ওয়েব সাইট হ্যাক করে এবং সেখান থেকে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমান মূল্যের একটি সফটওয়ার এর সোর্সকোড ডাউনলোড করে। নাসার মতে জেমস যে সফটওয়্যারগুলো চুরি করেছিল সেগুলো দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন নিয়ন্ত্রন করা হতো। জেমস নাসার ওয়েব সাইটে যে ক্ষতি করেছিলো সেটি ঠিক করতে নাসার ওয়েবসাইট তিন সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয় যেটি ইতিহাসে প্রথম বার ঘটেছিলো এই ক্ষুদে হ্যাকারের কল্যানে। নাসার ওয়েবসাইট ঠিক করতে নাসাকে গুনতে হয় প্রায় আরো ৪১,০০০ ডলার।

 

প্রতিরক্ষা দপ্তর, নাসা এবং স্থানীয় পুলিশ থেকে এজেন্টদের একটি দল জানুয়ারী ২৬, ২০০০ তারিখে আনুমানিক সকাল ৬টায় জেমসের বাড়িতে অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয়। এরপর ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। মুক্তির পর তাকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কড়া নজরদারিতে রাখা হয় এবং নাসা ও প্রতিরক্ষা দপ্তর এর কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখতে হয়েছিল। এসময় তার কম্পিউটার ব্যবহারের উপরেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিছু বছর পরেই সিক্রেট সার্ভিস সাইবার ক্রাইম হ্যাকারদের ট্র্যাক করতে শুরু করে।

২০০৭ সালে টিজেএক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে বেশ বড় একটা হ্যাকিং এর ঘটনা ঘটে। যার ফলে ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও বস্টন মার্কেট, বার্নেস এয়ান্ড নোবেল, স্পোর্টস অথরিটি, ফরেভার-২১, অফিস ম্যাক্স এবং ডেভ বাস্টার্সসহ আরো কিছু বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের হ্যাকিং এর ঘটনা ঘটে। যদিও জেমস অস্বীকার করেন যে, তিনি এগুলোর সঙ্গে জড়িত নন, তবুও তাকে বিভিন্ন তদন্তের সম্মুখীন হতে হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের তদন্তের মাধ্যমে দেখেন যে এই ঘটনাতে জে.জে. নামে অন্য একজন জড়িত। নামের সাথে মিলে যাওয়াতে জেমস তাদের প্রধান লক্ষ্যতে পরিণত হন। এরপর ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল জেমসের মৃতদেহ তার বাথরুমে পাওয়া যায়। তিনি তার বাবার বন্দুক দিয়ে নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

হ্যাকিং করার এই ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আর কোন উপায় না পেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন এবং মৃত্যুর অগে এই নোট রেখে যান, “I honestly, honestly had nothing to do with TJX, I have no faith in the ‘justice’ system. Perhaps my actions today, and this letter, will send a stronger message to the public. Either way, I have lost control over this situation, and this is my only way to regain control.”

Find us more here:

 

Website:

https://www.canbd.org

LinkedIn:

https://www.linkedin.com/company/canbdorg/

YouTube:

https://www.youtube.com/channel/UC5px2nUYgxiletdr9_6771A

Twitter id:

https://twitter.com/canbdorg

Instagram:

https://www.instagram.com/canbdorg/

Facebook page:

https://www.facebook.com/canbd.org

Facebook Group:

https://www.facebook.com/groups/canbd.org/


137 Views


5 1 vote
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x