সাইবার অপরাধ বাংলাদেশ

Sakib&Nayem

13 October, 2020 | 8 : 00 am

তথ্য প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের সাথে বর্তমানে অপরাধের ধরন ও ভিন্ন হয়েছে। সামাজিক নানা অপরাধের পাশাপাশি আরো একধরনের অপরাধ দেশের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে তা হলো সাইবার অপরাধ৷ বর্তমানে একটি বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ কিঃ
যেসব যন্ত্র নেটওয়ার্ক দ্বারা একসাথে যুক্ত থাকে যেমন কম্পিউটার অথবা মোবাইল ; এসব যন্ত্র ব্যবহার করে যখন কোন অপরাধ করা হয় তাকে সাইবার ক্রাইম বলে।যারা এধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত থাকে তাদের সাইবার অপরাধী বলে।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধঃ
বাংলাদেশ তথ্য ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার অপরাধ।। এগুলার মধ্যে হ্যাকিং, পরিচয় চুরি,ফোন ফ্রড,স্প্যাম্প, ফিশিং সাইবার বুলিং, ক্রেডিট কার্ড স্ক্যামিং সাইবার ক্রাইম গুলো বেশি সংগঠিত হয় আমাদের দেশে। আসুন জেনে নিই এরকম ৬ টি সাইবার অপরাধ সম্পর্কে।
১.স্প্যাম ও ফিশিংঃ
একদিন ই-মেল খুলে দেখলেন আপনি অনেক টাকার লটারি জিতেছেন৷ সেটা পেতে আপনাকে কিছু তথ্য দিতে বলা হচ্ছে৷ হঠাৎ করে বড়লোক হওয়ার লোভে আপনি সেই তথ্যগুলো দিয়েও দিলেন৷ ব্যস, যা হবার হয়ে গেছে৷ পরে দেখলেন টাকা পাওয়ার বদলে আপনার কাছে যা আছে সেটাও চলে যাচ্ছে! অর্থাৎ আপনি ফিশিং-এর শিকার হয়েছেন।
২.সাইবার বুলিংঃ
হয়ত মজা করার জন্য কিংবা ইচ্ছে করে একজনকে কষ্ট দিতে তার বন্ধুরা একজোট হয়ে হয়রানি করে থাকে৷ বাস্তবে স্কুল-কলেজে এমনটা হয়ে থাকে৷ আজকাল ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে ওঠায় ভার্চুয়াল জগতে এমন ঘটনা ঘটছে৷ কিন্তু অনেক সময় বিষয়টি আর মজার পর্যায়ে না থেকে ভয়ানক হয়ে ওঠে৷ ফলে যাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে সে হয়ত এমন কিছু করে ফেলে যা কারও কাম্য থাকে না৷
৩.ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড স্কিমিংঃ
রেস্টুরেন্ট, সুপারমার্কেটের বিল পরিশোধ, এটিএম থেকে টাকা তোলা, অর্থাৎ এমন কোথাও যেখানে আপনার ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডকে যন্ত্রের মধ্যে ঢোকাতে হয় সেখান থেকেও তথ্য চুরি হতে পারে৷ এটাই কার্ড স্কিমিং৷ স্কিমার যন্ত্রের মাধ্যমে এই তথ্য চুরি করা হয় বলে এর এমন নামকরণ হয়েছে৷
৪.হ্যাকিংঃহ্যাকিং হচ্ছে ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা।ফলে চুরি হয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহ সামাজিক ভাবে সেই ব্যবহারকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করা।এছাড়া ওয়েবসাইট হ্যাকিং এর মাধ্যমে হ্যাকার রা তথ্য চুরি থেকে শুরু করে অর্থ ও লুট করার মতো ঘটনা ঘটাতে ৫.পরিচয় চুরিঃ
আজকাল অনলাইনে কেনাকাটা করছেন অনেকে৷ এরজন্য নাম, ঠিকানা, ই-মেল, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি দিতে হয়৷ সমস্যাটা সেখানেই৷ যেসব ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো নয়, সেখানে এই তথ্যগুলো দিলে তা অপরাধীর কাছে চলে যাবার সম্ভাবনা থাকে৷ সেক্ষেত্রে অপরাধী আপনার তথ্য ব্যবহার করে আপনার ক্রেডিট কার্ড শূন্য করে দিতে পারে৷ কারণ আপনার যে পরিচয় চুরি হয়ে গেছে!
৬.ফোন ফ্রডঃ
অচেনা কোনো নম্বর থেকে (বিশেষ করে বিদেশ থেকে) মিসড কল পেলে সঙ্গে সঙ্গে কলব্যাক না করাই ভালো৷ কারণ কে জানে হয়ত ফোন ফ্রড অপরাধীরা এই কলটি করেছিলেন৷ আর আপনি কলব্যাক করতে যে টাকা খরচ করলেন তার একটি অংশ পেয়ে গেল অপরাধীরা!
আসুন আমরা সাইবার অপরাধ থেকে আরো সতর্ক হই। সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক বা শেয়ার থেকে বিরত থাকি। অনলাইন জগতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ইন্টারনেট ব্যাবহারে আরো সচেতন হই।


64 Views


5 1 vote
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x