Cyber Bullying

Bannah&Siyam

13 October, 2020 | 7 : 45 am

বর্তমানে সাইবার অপরাধ এক জটিল ডিজিটাল উপদ্রব। এর মধ্যে এক প্রকার অপরাধ হচ্ছে ব্যক্তিকে আক্রমন বা হেয় প্রতিপন্ন করার মত অপরাধ, যার শিকার হচ্ছেন ইন্টারনেট
ব্যবহারকারী কমবেশি সব বয়সের মানুষ। এই অপরাধের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাইবার বুলিজম’
*সাইবার বুলিং কী?
সামগ্রিক ভাবে সাইবার বুলিং হল এক ধরণের অপরাধমুলক আচরণ যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংঘটিত করা হয়। সব ধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম , ইমেল, মেসেজিং অ্যাপস, টেক্সট বার্তা,ফোরাম, গেমস এবং ইন্টারনেটে কানেকটেড থাকা যায় এরকম সব মাধ্যমে সাইবার বুলিং ঘটতে পারে।মোটকথা, তথ্য আদান প্রদানের যে কোনও অনলাইন মাধ্যম সাইবার বুলিংয়ের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
“বুলিং” বলতে আমরা বুঝি একজন ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে দোষারোপ বা খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা।তবে সাইবার বুলিং শুধু অনলাইনে আক্রমন করে বা কু-অর্থপূর্ণ বাক্য ব্যবহারই নয় একজনের ছবি বা ভিডিও বিকৃতি করে অনলাইনে তুলে ধরা, গুজব ছড়ানো, মিথ্যা ও বিব্রতকর তথ্য দেয়া, হয়রানি কিংবা মানসিক নির্যাতনও বুলিংয়ের মধ্যে পড়ে। এটি একধরনের সাইবার অপরাধ।
*সাইবার বুলিং কি কি ধরণের হয়ে থাকে?
ডক্সিং – ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত, বিরক্ত, মানহানি, বা হয়রানির উদ্দেশ্যে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য
প্রকাশ করা।হয়রানি – অনলাইনে প্রতারণা ও যেকোনো হয়রানি, যেমন হুমকি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে, ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তির উদ্রেক করে পোস্ট করা বা সরাসরি ম্যাসেজ দেয়া, মন্তব্য (কমেন্ট) করা, বা ব্যক্তির
ক্ষতি করার অভিপ্রায় নিয়ে অন্য কাউকে পাঠানো।ছদ্মবেশীকরণ – কোনো ব্যক্তির পরিচয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইট তৈরি করে ভিকটিমের খ্যাতির ক্ষতিকারক পোস্ট করা, ব্যঙ্গাত্মক ও নেগেটিভ অর্থবহ কথা বা ছবি প্রকাশ করা সাইবারস্ট্যকিং – হ্যারাস করার উদ্দেশ্যে কোনও ব্যক্তির অনলাইন ক্রিয়াকলাপ অনুসরণ ও পর্যবেক্ষন করা এবং ব্যক্তিগত ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা।
*ব্যক্তি জীবনে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে করনীয়:
সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ডিপ্রেশন,বিষণ্ণতা থেকে সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মানহানি হলে তা কর্মজীবনে প্রভাব ফেলে।স্বাভাবিক কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে যায় ,নেশায় আসক্তি ছাড়াও কিংবা জীবন ধ্বংসের কারণও হতে
পারে। এক্ষেত্রে নিজ মানসিক শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, বোঝাতে হবে, এটি আপনার দোষ নয়৷ কেউ যদি খুব খারাপভাবে আক্রমণ করে, এ বাজে আচরণের জন্য নিজেকে দোষী ভেবে কষ্ট পাবেন না।অন্যের আচরণের দায় আপনার নয়। নিজ দৈনন্দিন কাজের মানসিক শক্তিকে প্রভাবিত হতে দিবেন
না। বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ধৈর্য্যের সাথে ব্যবস্থা নিন। লজ্জা ও সংকোচে না লুকিয়ে কাছের মানুষদের সাথে পরামর্শ করুন। সকল তথ্য প্রমান সংগ্রহে রাখুন। প্রয়োজন হলে যিনি বুলিং করছে তার সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন, কিংবা ব্লক দিয়ে আপনার প্রোফাইলে এক্সেস বন্ধ করে দিতে পারেন। মানহানি বা ক্ষতির আশংকা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন।
*সাইবার বুলিং এর শিকার হলে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন:
প্রথমেই বুলিংয়ের তথ্য প্রমান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করুন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নির্দিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনটির অভ্যন্তরীণ সাপোর্ট সিস্টেম বা হেল্প ডেস্কের সহায়তা নেয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ ফেসবুকে ফেইক বা অস্বস্তিকর ছবি, গুজব,
পোস্ট, কিংবা প্রোফাইলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে বা ব্লক দিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যাবস্থা নেয়া যায়।প্রায় সব যোগাযোগ মাধ্যমেই এ ধরণের ব্যাবস্থা রয়েছে।
তবে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুতর হলে অবশ্যই বড় ধরণের পদক্ষেপগুলি অবলম্বন করা উচিত। এক্ষেত্রে
বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কাছে+880-29611111 নম্বরে ফোন করে বা btrc@btrc.gov.bd -তে ইমেল
করে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
বিটিআরসির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে এবং অভিযোগ দায়েরের পরে তিন দিনের মধ্যে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া +8801766678888 নম্বরে একটি সাইবার-ক্রাইম হেল্পলাইনও চালু করেছে।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুসারে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন
যেখানে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।যদি হয়রানির পরিমাণ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী ফৌজদারি ভয় দেখানো (তার ব্যক্তির, খ্যাতি,
সম্পত্তি ইত্যাদির জন্য অন্য কাউকে আঘাত করার হুমকি) এর পরিমাণ হয়, তবে সেই ব্যক্তি দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুসারে শাস্তির জন্য দায়বদ্ধ হতে পারে।

113 Views


0 0 votes
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x