ডিজিটাল নিরপত্তা আইন- যে যে কাজ করলে আপনি ফেঁসে যেতে পারেন!

অমিত ও তানভীর

16 March, 2021 | 8 : 54 pm

ডিজিটাল নিরপত্তা আইন- যে যে কাজ করলে আপনি ফেঁসে যেতে পারেন!

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন, বিচার ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণীত হয়।উক্ত আইনে, এই আইনের প্রয়োগ,ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠন,এদের পরিচালনা পরিষদ,সদস্যদের নিয়োগ,মেয়াদ,জনবল,প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাদি(যেমন- রাষ্ট্রের তথ্য উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন,তাদের ক্ষমতা এবং মান নিয়ন্ত্রণ),জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন(কাউন্সিলের ক্ষমতা),গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো গঠন এবং এদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন সম্পর্কে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ অনুসারে আপনি কিছু নির্দিষ্ট কাজ করে থাকলে আপনার শাস্তি হবে।কিছু ক্ষেত্রে আপনার বিপক্ষে রাষ্ট্রদোহীতার অভিযোগ আনা হতে পারে।এমন কিছু শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলো –

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ । বেআইনি প্রবেশের ক্ষেত্রে অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হতে পারে।  তবে বেআইনি প্রবেশ করে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বা কোনো প্রতিষ্ঠান এর ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করা হলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
  • কম্পিউটার,মোবাইল বা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বেআইনি প্রবেশ অথবা এর সিস্টেমের ক্ষতিসাধন,সোর্স কোডের পরিবর্তন। বেআইনি প্রবেশের ক্ষেত্রে অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত হতে পারে।এবং পর পর দুইবার কাজটি করলে শাস্তির পরিমান দ্বিগুন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।অন্যদিকে, সোর্স কোডের পরিবর্তন,স্প্যামিং,সিস্টেমের ক্ষতিসাধন এর ক্ষেত্রে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
  • মুক্তিযুদ্ধ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,জাতির পিতা,জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা চালানো দন্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে আপনার ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে এবং পরপর দুইবার করলে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
  • ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস জালিয়াতি,পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ, আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ এবং অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার,মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। 
  • সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধে আপনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। সাইবার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রাষ্ট্রদোহীতার সামিল।
  • ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার করাও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে অপরাধী ব্যক্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
  • আইন বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশন যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি,বিটকয়েন ইত্যাদির লেনদেন রাষ্ট্রীয় আইন অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ। 

এছাড়াও দেশের গোপনীয়তা ভঙ্গ,গোপন তথ্য পাচার, ইচ্ছাকৃতভাবে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, বেআইনিভাবে তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণ এবং স্থানান্তর, হ্যাকিং, রাষ্ট্রীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা  ইত্যাদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ। এসব অপরাধ এর নির্দিষ্ট একটি অপরাধ করলেই আপনাকে জরিমানা দিতে হবে এবং ক্ষেত্র বিশেষে জেল ও হতে পারে।

—————————————–

1 ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ সেকশন ১৭(২)

2 ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সেকশন ১৮(২),১৮(৩),১৯(৩)

3 ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সেকশন ২১(৩)

4 ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ সেকশন ২৭(৩)

5 ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ সেকশন ২৮(২)


435 Views


3.5 4 votes
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x