কীভাবে ভয়কে পরাস্ত করা যায়?

Suborna & Orin

17 November, 2020 | 4 : 56 pm

মানুষের মস্তিষ্কে নিউরোকেমিক্যাল থাকে তার বিভিন্ন অনুভূতি বোঝার জন্য, যখন তার চারপাশে এমন কোনো ঘটনা ঘটে যার সাথে সেই নিউরোকেমিক্যাল এর সামঞ্জস্য হয় না, তখন সেই পরিস্থিতিকে আমরা ভয় বলে থাকি। ভয় পেলে মানুষের সবকটি ইন্দ্রিয় একসাথে কাজ করা শুরু করে।

ছোটবেলা থেকেই আমরা ভয়ের অনুভূতি পাই আমাদের আশেপাশের অনেক ঘটনা থেকে। শিশু অনেক ছোট অবস্থায়ও তার মাকে কাছে না পেলে ভয়ে কান্না করে।আমাদের সবাই কমবেশি যেকোনো বিষয় নিয়ে ভয় পাই, তবে সবার ভয়ের কারণ আলাদা।অবচেতন মনে আমাদের ভয় গুলো জমা হতে থাকে।

ভয় একটি শারিরীক প্রক্রিয়া নাকি মানসিক সে বিষয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ দেখা যায়।তবে ভয় পেলে শারিরীক, মানসিক দুইভাবেই কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

শারিরীক লক্ষণ :
মাথা ব্যথা,মাথার ভেতর হালকা মনে হওয়া,চোখে ঝাপসা দেখা,ঘাড় ব্যথা,পিপাসা,হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা,হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া,শাসকষ্ট,ঘুমের ব্যঘাত ইত্যাদি।

মানসিক লক্ষণ :
মনোযোগে ব্যাঘাত,সিদ্ধান্তহীনতা, অনিশ্চয়তার ভয়,মৃত্যু ভয়,স্মরণশক্তি হ্রাস,অকারণেই বিরক্ত বোধ করা,শব্দের প্রতি অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হয়ে পড়া,অস্থিরতাসহ নানা উপসর্গ।

ভয় নিয়ে বিখ্যাত মনোচিকিৎসক আন্দ্রেয়াস স্ট্রোলে জানান, যেসব পরিস্থিতির কারণে মানুষ ভয় পায়,সেগুলো থেকে দূরে সরে না গিয়ে বরং ঐ পরিস্থিতিতে কথা বলার বা নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত।

ভয়কে আমরা মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করব যখন সেটা কারণ ছাড়া হবে, ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হবে,পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে না। এগুলো হলো খুব স্বল্প পরিসরে Anxiety Disorder এর ধারণা।

আমরা বিভিন্ন ধরণের ভয় বিষয়ক মানসিক রোগ দেখতে পাই। সেগুলোকে আমরা ফোবিয়া বলে থাকি।এমন কিছু ফোবিয়া হলো,
অটোফোবিয়া(একাকিত্বের ভয়),
আগ্রাফোবিয়া(যৌন নিপীড়নের ভয়),
এজিরোফোবিয়া(রাস্তা পাড়াপাড়ের ভয়),
এক্রোফোবিয়া(উচ্চতা ভীতি),
গ্লসোফোবিয়া(জনসম্মখে কথা বলার ভয়),
প্যানিক ডিসঅর্ডার
এগুলো হলো মানুষের মাঝে দেখতে পাওয়া কিছু কমন ফোবিয়া। তবে বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে যে ফোবিয়া বেশি দেখা যাচ্ছে তা হলো ব্যাক্টেরিয়াফোবিয়া/মাইক্রোফোবিয়া( অনুজীব এবং ব্যাক্টেরিয়ার ভয়)।

যখনই আমাদের মাঝে এই ফোবিয়ার মাত্রা বেশি হবে তখন উচিত আমাদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া।কারণ এই সমস্যা বাড়লে আমাদের ব্যক্তিগত,পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ব্যাহত হবে।
ড.কের বলেন,এক্সপোজার থেরাপি, কগনিটিভ থেরাপি,ব্রিদিং এক্সারসাইজ এগুলোর মাধ্যমে এই ফোবিয়া গুলো দূর করা যায়।এছাড়া নিয়ন্ত্রিত জীবন,ক্যাফেইন,নিকোটিন, এড়িয়ে চলে,ঘুমের সময় ঠিক রাখা এগুলোর মাধ্যমেও এই ফোবিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জার্মানিতে রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের করা এক সমীক্ষায় জানা গেছে শতকরা ৩.০৯ ভাগ জার্মান জীবনের কোনো না কোনো সময় ভয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।আরেক সমীক্ষা বলে,শতকরা ২০ ভাগ মানুষের জীবনের কোনো একটা সময়ে প্যানিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হয়।

ভয়ের পরিণতি কখোনো আমাদের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। তাই আমাদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই ভয় নামক জেলখানা থেকে মুক্তির উপায় বের করা।

– Suborna Sarmin
Bangla 46 Batch
Jahangirnagar University


348 Views


4.3 10 votes
Article Rating
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Show Buttons
Hide Buttons
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x